হঠাৎ বাড়ছে হার্টবিট! স্বাভাবিক নাকি বিপদ সংকেত?
কখনও কখনও কী এমনটা মনে হয়েছে যে, বুকের ভিতর “ধুকপুক” শব্দটা অনেক বেড়ে গেছে, বেশি জোরে শোনা যাচ্ছে? কিংবা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে হাত-পা, সারা শরীরে অস্থিরতা কাজ করছে ? এইরকম অভিজ্ঞতা হলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান, আবার কেউ কেউ প্রাথমিক অবস্থায় গুরুত্বও দেন না। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই দ্রুত হৃদস্পন্দনের ঘটনাটির পোশাকি নাম ট্যাকিকার্ডিয়া (TCHYCARDIA)। নামটা কঠিন শোনালেও বিষয়টি বুঝতে পারা খুব সহজ।
শরীরের স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের হার্ট প্রতি মিনিটে ৬০–১০০ বার বিট করে । কিন্তু যখন এই সংখ্যা ১০০-এর উপরে চলে যায়, তখন তাকে বলা হয় ট্যাকিকার্ডিয়া। এটা দুই ভাবে দেখা দিতে পারে— স্বাভাবিক কারণে: দৌড়ানো, ভয়ে চমকে ওঠা, জ্বর, অতিরিক্ত কফি খাওয়া বা দুশ্চিন্তা। অস্বাভাবিক কারণে: হার্টের সমস্যা, রক্তশূন্যতা, থাইরয়েড বেশি কাজ করা, শরীরে জল কমে যাওয়া ইত্যাদি।
সব ট্যাকিকার্ডিয়া বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—১) দ্রুত হৃদস্পন্দন অনেকক্ষণ থাকে, ২) বুক ব্যথা হয়, ৩) শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ৪) মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো লাগে, ৫) আগে থেকে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে...চিকিৎসক প্রয়োজন হলে ইসিজি, ইকো বা হোল্টার মনিটরিং পরীক্ষা করতে পারেন।
নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন? হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু সহজ জীবনযাপন পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর— ১) প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ২) নিয়মিত ব্যায়াম, তবে অতিরিক্ত নয় ৩) মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন ৪) কফি ও এনার্জি ড্রিঙ্ক কমানো ৫) পর্যাপ্ত জল পান ৬) ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা ৭) সুষম খাবার খাওয়া ও লবণ কমানো
ট্যাকিকার্ডিয়া সবসময় ভয় পাওয়ার মতো নয়, আবার কখনো এটিকে হালকাও নেওয়া উচিত নয়। নিজের শরীরের সংকেত বুঝুন। যদি মনে হয় হৃদস্পন্দন হার্ট বিট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চলছে এবং বারবার এমন হচ্ছে—তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে আপনার হৃদয়কে সুস্থ রাখতে।






Rajib Parua
???? ?????? ????????!